সোমবার, ২১ মে, ২০১২

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় এগিয়ে আসুন


॥ সুনির্মল চন্দ্র বসু ॥


আজ আন্তর্জাতিক জীববৈচিত্র্য দিবস। জীববৈচিত্র্য বলতে সাধারণত জীবের সংখ্যা, প্রজাতিভেদ ও বৈসাদৃশ্যকে বোঝানো হয়ে থাকে। মহান সৃষ্টিকর্তার অপার সৃষ্টি জীববৈচিত্র্য। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীতে ১৭ লাখ প্রজাতির উদ্ভিদ ও প্রাণী রয়েছে। এর মধ্যে উদ্ভিদ প্রজাতির সংখ্যা দুই লাখ ৬০ হাজার; তবে আইইউসিএন-এর মতে, এ সংখ্যা ৩০ লাখ, কীটপতঙ্গের সংখ্যা সাত লাখ ৫০ হাজার অমেরুদণ্ডী প্রাণী ও জীবাণুর সংখ্যা তিন লাখ ৫০ হাজার এবং মেরুদণ্ডী প্রাণীর প্রজাতির সংখ্যা প্রায় ৪১ হাজার। মানুষের সব খাদ্য আসে জীববৈচিত্র্য থেকে। আদিকাল থেকেই মানুষ খাদ্যের জন্য প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। প্রায় ৮০ হাজার উদ্ভিদ প্রজাতির নানা অংশ আহারযোগ্য বলে জানা গেছে। অথচ বর্তমানে আমাদের ৯০ শতাংশ খাদ্য আসে মাত্র ১৫ প্রজাতির উদ্ভিদ থেকে। মানুষের দুর্ভোগ কমাতে জীবন বাঁচাতে জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব অপরিসীম। কুইনাইন ও পেনিসিলিন ছাড়াও অনেক রোগের ওষুধ ও প্রতিষেধক উদ্ভাবনে জীববৈচিত্র্যের কাছে মানুষ ঋণী। বিজ্ঞানীদের হিসেবে গ্রীষ্মমণ্ডলীয় বনভূমির প্রায় এক হাজার ৪০০ প্রজাতির উদ্ভিদ ক্যান্সার চিকিৎসায় কার্যকর বলে জানা গেছে। পৃথিবীর গরিব মানুষের ৯০ শতাংশ তাদের জীবিকার জন্য বনের ওপর নির্ভরশীল। এক শ’ কোটিরও বেশি মানুষ বিশ্বের ১৯টি জীববৈচিত্র্য ভরপুর এলাকায় বাস করে। উদ্ভিদ সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় কার্বন ডাইঅক্সাইড গ্রহণ করে আবহাওয়ামণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের ঘনত্ব কমিয়ে দেয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, কোনো গাছের শুষ্ক ওজনের ৫০ শতাংশই কার্বন। গাছপালার আচ্ছাদন ভূমিক্ষয় রোধ করে মটির কণায় আবদ্ধ জৈবিক কার্বনকে আবহাওয়ামণ্ডলে কার্বনের পরিমাণ বেড়ে বিশ্বে বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে। বায়ু, পানি ও মাটিতে প্রতি বছর ৩০০ কোটি টনের বেশি ক্ষতিকর পদার্থ মিশে যাচ্ছে। পৃথিবীর বায়ুস্তরের ২০ কোটি টন কার্বন ডাই-অক্সাইড জমছে। কলকারখানার ধোঁয়ার সাথে বাতাস মিশছে ১৬ কোটি টন নাইট্রিক অ্যাসিড। এতে অনবরত তাপমাত্রা বাড়ছে। পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে জীববৈচিত্র্যে সমস্যা দেখা দেয়। গ্রিনহাউস প্রতিক্রিয়ার ফলে বর্তমান শতাব্দীতে বিশ্বজুড়ে তাপমাত্রা ১-৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়তে পারে। সেই সাথে সমুদ্রের পানির উচ্চতা বেড়ে যাবে ১-২ মিটার। এভাবে কেবল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ৮০ প্রজাতির জীব সমুদ্রের তলদেশে তলিয়ে যাবে। জীববৈচিত্র্য ভেঙে যাওয়ার কারণে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ১০ শতাংশ পেঁচা মারা যাওয়া, পোল্যান্ডের ৪৩ প্রজাতির পাখি বিলুপ্ত হওয়া, বায়ুমণ্ডলের তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ার ফলে দণি এশিয়ার বহু দেশ সমুদ্রে তলিয়ে গেলে পর্যাপ্ত জীব প্রজাতি বিলুপ্তির শিকার হবে। ড. হক বলেন, ফারাক্কা বাঁধের প্রভাবে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং পানির স্তর নেমে যাচ্ছে। এতে ১০ কোটি হেক্টর উর্বর ভূমি নষ্ট হচ্ছে। ভূমিক্ষয়ের ফলে প্রতি বছর ৬০ লাখ থেকে ৭০ লাখ হেক্টর জমি চাষের অযোগ্য হচ্ছে।
বিশ্বব্যাংকের মতে , ২০২০ সালে বাংলাদেশের খাদ্যঘাটতি দাঁড়াবে ৫০ থেকে ৬০ লাখ টন। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, জাতীয় আয়ের ৩০ শতাংশ জীববৈচিত্র্য থেকে আসে। প্রতি বছর ২৫ হাজার স্তন্যপায়ী, ২০ লাখ থেকে ৩০ লাখ পাখি, এক কোটি সরীসৃপের চামড়া এবং ২৫ কোটিরও বেশি ক্রান্তীয় মাছ ব্যবসায়ের তাগিদে বিশ্ববাজারে প্রবেশ করে। ১৪টি পশুপাখি আমাদের প্রাণিজ আমিষের জোগানদার। আতঙ্কিত হতে হয়, ছয় হাজার ৩০০ গবাদিপশু জাতের মধ্যে এক হাজার ৩৫০ প্রজাতি নানা কারণে ইতোমধ্যেই নিঃশেষ হয়ে গেছে। বাংলাদেশ থেকে ১৩ প্রজাতির মেরুদণ্ডী প্রাণী বিলুপ্ত হয়ে গেছে।
বর্তমান বিশ্বের খাদ্য উৎপাদনের ৯৫ শতাংশ মাত্র ৩০টি প্রজাতির উদ্ভিদের ওপর নির্ভরশীল। বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশে একসময় প্রায় ১৮ হাজার প্রজাতির ধান উৎপন্ন হলেও বর্তমানে তা কমে ঠেকেছে প্রায় ১৫-৩০ প্রজাতিতে। মাত্র ৪টি মাঠ ফসল যেমনÑ ধান, গম ভুট্টা, আলু মোট খাবারের অর্ধেক সরবরাহ করে। আগামী ১৫ বছরে নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে পৃথিবীর ১৫ শতাংশ উদ্ভিদ ও প্রাণী। পৃথিবীর স্থলভাগের ৪০ শতাংশ জমি কৃষিকাজে ব্যবহৃত হয়। অধ্যাপক আ ক ম উউসুফ হায়দার বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে বায়ুদূষণ ও সমুদ্রের লবণাক্ততা বাড়ছে। এতে জীববৈচিত্র্য নষ্ট হচ্ছে।১৯৯২ সালে গ্লোবাল বায়োডাইভার্সিটি স্ট্রেটেসি নামের দলিলে জাতীয়, আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক পর্যায়ে জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে ৮৫টি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব রাখা হয়েছে। জীবসম্পদের মানবকল্যাণমুখী গুরুত্ব ও পৃথিবীর স্থায়িত্ব রক্ষায় ১৯৯২ সালে ব্রাজিলের রিওডি জেনিরোতে মিলিত হয়ে জীববৈচিত্র্য রক্ষা ও গবেষণায় একমত হয়েছেন। জীববৈচিত্র্য কনভেনশন ১৯৯৩ সালের ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হয়। ২০০২ সালে জোহানেসবার্গে পরিবেশ সম্মেলনে জীববৈচিত্র্য রক্ষার জন্য বিশেষ গুরুত্ব দেয়া হয়। ২০০৪ সালে প্রণীত গ্লোবাল গ্রুপ ডাইভারসিটি ট্রাস্ট এবং বায়োলজিক্যাল ডাইভারসিটি সম্পর্কিত কনভেনশনে গৃহীত সিদ্ধান্তাবলিসহ অন্য সব নীতিমালার কার্যকর ও সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করা জরুরি। ২-১৪ অক্টোবর ২০০৪ সালের ১৩তম সাইটেস সম্মেলনে জীববৈচিত্র্যের সামগ্রিক অবস্থা নিয়ে আলোচনা করা হয়। বিলুপ্তপ্রায় উদ্ভিদের ব্যবসায় ক্ষেত্রে এর নীতিমালা প্রয়োগ ও জোরদার করতে হবে। সব চুক্তির প্রতিশ্রুতি, নৈতিক দায়িত্ব ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের অধিকার রক্ষায় বাংলাদেশ সরকার একটি জাতীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকৌশল ও কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করছে। এ জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ কর্মকৌশল ও কর্মপরিকল্পনার ভিত্তিতেই সরকার জীববৈচিত্র্যের প্রতিটি উপাদানকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। প্রকৃতির এ জটিল ইকোসিস্টেম ডাইনামিকের বিস্তারিত উদঘাটিত হলেই জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণের প্রয়োজনীয়তা সঠিকভাবে মূল্যায়ন করা সম্ভব হবে। আমরা নষ্ট পরিবেশকে আবার সুস্থ করতে জীববৈচিত্র্যকে ধরে রাখতে চাই। সুষ্ঠুভাবে যারা পৃথিবীর বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মানুষের সব ধরনের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও পরিবেশীয় অবস্থা মেটাতে জীববৈচিত্র্যের গুরুত্ব অপরিসীম। প্রকৃতি ও জীববৈচিত্র্যের ভারসাম্য রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব তাই জীববৈচিত্র্যপূর্ণ একটি পৃথিবী আমাদের স্বপ্ন। 
লেখক : প্রভাষক, মুজিব ডিগ্রি কলেজ, কাদেরনগর, টাঙ্গাইল

রবিবার, ২০ মে, ২০১২

চন্দ্ররেণুর কবলে নজরুলের গান


 সাজজাদ হোসাইন খান
বদনসিব কবি নজরুলের। সংকট-সমস্যা থেকে উতরাতে পারেনি অদ্যাবধি। কবির জীবিতকালে বা সুস্থ থাকার সময় যেমন তার রচিত গান দুষ্টচক্রের কুনজর থেকে রক্ষা পায়নি, হাতসাফাইয়ের কবলে পড়েছে অহরহ, এই প্রক্রিয়াটি বর্তমানেও চলমান। মাঝে মধ্যেই দেখা যায় নজরুলের গান অন্যের নামে উপস্থাপন করা হচ্ছে। দ্বিজেন্দ্রলালতো আছেই, ইদানীং যুক্ত হয়েছে রবীন্দ্রনাথ। এর কোনটা তথ্য বিভ্রাট কোনটা আবার সজ্ঞানে। এমনি একটি বাক্যের নমুনা এরকম ‘বাংলা বর্ষবরণের সূচনালগ্নে যেন বসনে-ভূষণে, আহারে-বিহারে এবং সংস্কৃতির অন্তর্গত রূপের উদ্ভাসনে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘একি অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী জননী' হয়ে ওঠে আমাদের সোনার বাংলা।' বাক্যটিতে উচ্ছবাস আছে আবেগ আছে নেই কেবল সত্যের সুষমা। মূল তথ্য হলো এই চমৎকার গানটি কাজী নজরুল ইসলামের একটি বিখ্যাত কোরাস গান। এইচ এম ভিতে গীত হয়েছিল চৌত্রিশ সালের দিকে সমবেত কণ্ঠে ধীরেন দাসের নেতৃত্বে। নজরুলের ‘‘গানের মালা’’ গ্রন্থের সাঁইত্রিশ নম্বর গান এটি। গানের ওপরে সুরের উল্লেখ আছে বেহাগ মিশ্র-কাওয়ালী। এতো কিছুর পরও গানটি রবীন্দ্র সঙ্গীতের ঝুলিতে ঢুকিয়ে দেয়ার চেষ্টা হচ্ছে। রবীন্দ্র সঙ্গীত হিসাবে গাওয়াও হয় নজরুলের এই গানটি। আজকাল একশ্রেণীর প্রগতিবাদীর ধারণা জন্মেছে ‘কানু' ছাড়া গীত হতে পারে না। তাই যা কিছু ভাল যা কিছু সুন্দর এর সবকটাই এনে জমা করে রবীন্দ্রনাথের থলিতে। কদিন আগেও মোবাইলের রিংটোনওয়ালারা নজরুলের একটি বিখ্যাত গান ‘মোরে ভালবাসায় ভুলিও না/পাওয়ার আশায় ভুলিও গানটি রবীন্দ্র সঙ্গীতের তালিকায় ঢুকিয়ে রেখেছিল। এ ব্যাপারে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে বর্তমানে রিংটোনের বিজ্ঞাপন থেকে ‘নজরুল সঙ্গীত', ‘রবীন্দ্র সঙ্গীত' এর তালিকা উধাও। এই সচেতনতার জন্য তাদেরকে সাধুবাদ। কিন্তু দৈনিক ইত্তেফাকের বিশেষ সংখ্যায় (১৭ বৈশাখ ১৪১৯) ‘গীতনাট্যের হাজার বছর' শিরোনামের লেখাটিতে রবীন্দ্রপ্রেমের পরাকাষ্ঠা দেখিয়ে আফসার আহমদ যে কৌশলে নজরুলের গান ছিনতাই করলেন প্রায় এক মাস গত হবার পরও ছিনতাইকৃত এ গানটি ফেরত পাওয়া গেল না। না আফসার আহমদ- না পত্রিকা কর্তৃপক্ষ কোন সংশোধনীর দিকে এগোলেন। রবীন্দ্র সংগীতের বেলায় এমন ঘটলে একশ্রেণীর রবীন্দ্রভক্ত সমস্বরে হুক্কাহুয়া শুরু করতেন। পত্রিকা কর্তৃপক্ষ ‘ভুল' স্বীকার, ‘ক্ষমা' প্রার্থী ইত্যাকার শব্দাবলী ছাপিয়ে দিতেন ইতোমধ্যে। বিষয়টির সাথে নজরুলের নাম যুক্ত বোধ হয় এজন্যে সবাই নীরব। নজরুল অভিভাবকহীন হয়তো এজন্যেও। নজরুলের ব্যাপারে এ জাতীয় কুম্ভিলক আচরণ তাই তেমনটা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ায় না। যেমন উল্লেখিত সঙ্গীতটির ব্যাপারে দু'একজন নজরুল ভক্ত প্রতিবিধান চেয়ে আর্জি পেশ করলেও চন্দ্ররেণুর সাথে যারা যুক্ত তারা নির্বিকার। নজরুল নামের প্রতিষ্ঠানগুলোর কি এ ব্যাপারে কোনই করণীয় নেই?
অবশ্য নজরুলের গান লোপাটের শুরুটা নজরুলের জীবিতকাল থেকেই। একটি দুটি গান নয় গানের একটি পুরো খাতাই গায়েব করে দিয়েছিল। পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়েও সে খাতা আর ফেরত পাওয়া যায়নি। দু'একখানা শব্দ পালটে দিয়ে নজরুলের গান নিজের নামে চালিয়ে দেয়ার ব্যাপারটি ছিল তখন ওপেন সিক্রেট। পুরো-গানই মেরে দেবার ইতিহাসও আছে অনেক। কমল দাস গুপ্তকে উদ্ধৃত করে আববাসউদ্দিন তার বইয়ে সে তথ্যের উল্লেখ করেছেন। তৎকালীন অনেকেই বিষয়টি ফাঁস করেছেন তাদের লেখায়-বক্তব্যে। সে সময় এ ধরনের কুম্ভিলক বিদ্যায় চৌকস ছিলেন প্রণব রায়। এ নামটিই ঘুরিয়ে ফিরিয়ে উচ্চারণ করেছেন অনেকেই। গানের দু'একটি শব্দ পাল্টে দিয়ে নিজের নামে রেকর্ড করার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে তখন। তাছাড়া সে সময় গীতিকার সুরকারের নাম ছাপা হতো না রেকর্ডে প্রায়শই। এই সুযোগটিই গ্রহণ করেছে তারা। শিল্পী তালাত মাহমুদের গাওয়া ‘আধো রাতে যদি ঘুম ভেঙে যায়' গানটি প্রণবের নামে প্রচারিত। নজরুলেরও একটি গান আছে প্রথম বাক্যটি হুবহু এক, যে গানের কোন রেকর্ড পাওয়া যায়নি, হস্তলিপি রয়েছে। এমন নজির একটি নয়, বহু। হিন্দি ছবি ‘চৌরঙ্গী'র সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন নজরুল। কাগজপত্রেও তা উৎকলিত আছে। আদি রেকর্ডেও লেখা আছে ‘কম্পোজ এন্ড টুইন কাজী নজরুল।' অবাক করার বিষয় বর্তমানের রেকর্ডে নজরুলের নাম মুছে দিয়ে লেখা হয়েছে ইন্দ্রানী রায়। এমন কুম্ভিলক ব্যাপার-স্যাপার থেমে নেই। যেমন ‘একি অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লী জননী' গানটির সাথে করা হয়েছে।
বিখ্যাত গায়ক সায়গলের কণ্ঠে গীত ‘গোলাপ হয়ে উঠুক ফুটে তোমার রাঙা কপোলখানি' এই গানটির গজল ঢঙের সুর এবং বাণী বার বার নজরুলকেই উপস্থিত করে। নজরুল গবেষক কবি আবদুল মান্নান সৈয়দ এই বিষয়টির প্রতি আলোকপাত করেছিলেন। অবশ্য দু' একজন বলছেন গানটি নাকি বানী কুমার কর্তৃক রচিত। তারা কাগজপত্রে এমন সন্ধান পেয়েছেন। তৎকালে নজরুল ব্যতীত অন্য যেসব সুরকার-গীতিকার ছিলেন সে তালিকায় বানী কুমার অনেকটাই ম্লান। ‘গোলাপ হয়ে উঠুক ফোটে'র মতো এমন ভাব সমৃদ্ধ ক্লাসিকেল সুরের গান রচনার পরপরই বানী কুমার বানীহীন হয়ে যাবেন তাতো হতে পারে না। বানী কুমারের আর তেমন কোন উল্লেখযোগ্য গানের কলি উচ্চারিত হয় না যেমনটা প্রণব রায়-অজয় রায়দের বেলায় শোনা যায়। পোস্টারে নাম ছাপা হলেই যে তা সঠিক হবে এমনতো নাও হতে পারে। পরবর্তী সময় সত্য সন্ধানীরা এসব ব্যাপারে বহুদূর অগ্রসর হয়েছেন, মূলের কাছে পৌঁছেছেনও কেউ কেউ। নজরুলের একটি হস্তলিপি পাওয়া গেছে যাতে লেখা রয়েছে ‘টু সংগম ফর সায়গল' নিচে লেখা আছে আর্জেন্ট। সায়গলের জন্য এ গান দু'টি তাহলে কোথায় গেল? জানা যায়, দেবদাস সিনেমার জন্য নজরুল দু'টি গান রচনা করেছিলেন, সায়গলের গজল ঢঙে গাওয়া গানটি এর একটি। পোস্টারে লেখা থাকলেই যে তা সবসময় সত্য তথ্যের সন্ধান দেয় না এর আরেকটি হলো বিদ্যাপতি সিনেমা। নজরুল এ ছবির চিত্রনাট্য লিখলেও পর্দায় নাম গেছে দেবকী বসুর। সঙ্গীত পরিচালকও ছিলেন নজরুল, কিন্তু টাইটেলে নাম প্রদর্শিত হয়েছে রাইচাঁদ বড়াল। পরবর্তী সময় রাইচাঁদ বড়াল এক সাক্ষাৎকারে স্বীকার করেছেন, বিদ্যাপতি সিনেমায় সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে তার নাম প্রদর্শিত হলেও আসলে সঙ্গীত পরিচালক ছিলেন কাজী নজরুল ইসলাম। তাই বানী কুমারের নামটি যে এমন বিভ্রান্তিতে আটকা পড়েনি তা কতটা হলফ করে বলা যায়! কথায় আছে ‘লেজ দেখে যায় চেনা' ঠিক তেমনি গানের বেলায়ও সুর এবং বাণীর কায়দা-কৌশল দেখে আন্দাজ করা যায় রচকের চেহারা। ছাপার অক্ষর অনেক সময় গবেষকদের প্রতারিত করে বিভ্রান্তিতে ফেলে। এই যেমন একশ' বছর পরে যদি কোন গবেষক ছাপার অক্ষরে দেখেন ‘কি অপরূপ রূপে' গানটি রচনা করেছেন রবীন্দ্রনাথ তখন দশাটা কি হবে বেচারা গবেষকের। তাই পোস্টার দেখেই রোস্টার ঠিক করা কোনক্রমেই সুবুদ্ধির পরিচায়ক নয়। সঙ্গীতে নজরুল তুলনা রহিত এমন ঘোষণা অসংকোচেই করা যায়। তাছাড়া নজরুলের সঙ্গীত সংখ্যা বিপুল বিধায় হাত বদলের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে প্রচুর।
ইদানীং পঞ্চ ‘কবির গান' এই শিরোনামে চ্যানেলগুলো অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। পঞ্চ কবির তালিকায় রাখা হয় রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, ডিএল রায়, রজনীকান্ত এবং অতুল প্রসাদকে। নজরুল-রবীন্দ্র ছাড়া বাকি তিনজনের কবি খ্যাতি বলতে তো তেমন কিছুই নেই। তারপরও তারা কবি। ডিএল রায় নাট্যকাররূপেই সমধিক পরিচিত। বাকি দু'জন কবিতা লিখেছেন বটে তবে তেমন উল্লেখের দাবি রাখে না। তবে তারা তিনজনই গীতিকার হিসাবে পরিচিতি পেয়েছেন। কিছু জনপ্রিয় গানের রচকও তারা। তবে সুর-বাণীর ধারায় এরা তিনজনই রবীন্দ্রানুসারী, একমাত্র ব্যতিক্রম নজরুল, নিজস্বতায় উজ্জ্বল। এই কবি তথা সঙ্গীতজ্ঞদের তালিকা থেকে লালন এবং হাছন রাজাকে তফাতে রাখার কারণ? তাদের গানও তো জনপ্রিয়তায় রজনী-অতুল থেকে কোন অংশে নিম্নে নয়। বরং কয়েক ডিগ্রি উপরেই এদের অবস্থান। সুর এবং বাণীতেও লালন-হাছন দ্বীপ্তিময়, প্রাণস্পর্শী। গীত রচনার সংখ্যার দিক দিয়েও তারা তালিকার উপরের সারিতে। রবীন্দ্রনাথের গানের সংখ্যা ২২২০, নজরুলের ৩৯০৬, ডিএল রায় ৬০৫, অতুল প্রসাদ ২০৭, রজনীকান্ত ২৯১, লালন ৮০০, হাছন রাজা ৩৪৫টি। এ জন্যে পঞ্চ কবির পরিবর্তে সপ্ত কবি শিরোনামটি বোধহয় অধিকতর যুক্তিযুক্ত। কারণ নজরুল-রবীন্দ্রনাথের পাশে অন্য তিনজনকে কবি অভিধায় চিহ্নিত করা এক ধরনের ধৃষ্টতারই নামান্তর, যদি লালন-হাছনকে এ তালিকায় না রাখা হয়।
নজরুলের গান অন্যদের নামে যাচ্ছে অবিরল। কিন্তু এ ব্যাপারে নজরুলের অভিভাবকত্য নিয়ে যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের বাবরী চুল উড়ান তাদের অসহায়ত্ব এবং নীরবতা নজরুল ভক্তদের পীড়িত করে। এ পীড়া উপসমে এদের অনুপস্থিতি বিভ্রাটে ফেলে নজরুলগতপ্রাণ ভক্তদের সাথে সাথে স্বয়ং নজরুলকেও।

একি অপরূপ রূপে মা তোমায় হেরিনু পল্লি-জননী।
ফুলে ও ফসলে কাদা মাটি জলে ঝলমল করে লাবণি\

রৌদ্রতপ্ত বৈশাখে তুমি চাতকের সাথে চাহ জল,
আম কাঁঠালের মধুর গন্ধে জ্যৈষ্ঠে মাতাও তরুতল।
ঝঞ্ঝার সাথে প্রান্তরে মাঠে কভু খেলো লয়ে অশনি\

কেতকী কদম যূথিকা কুসুমে বর্ষায় গাঁথো মালিকা,
পথে অবিরল ছিটাইয়া জল খেলো চঞ্চলা বালিকা।
তড়াগে পুকুরে থইথই করে শ্যামল শোভার নবনী\

শাপলা শালুকে সাজাইয়া সাজি শরতে শিশিরে নাহিয়া,
শিউলি-ছোপানো শাড়ি পরে ফের আগমনী-গীতি গাহিয়া।
অঘ্রাণে মা গো আমন ধানের সুঘ্রাণে ভরে অবনী\

শীতের শূন্য মাঠে তুমি ফেরো উদাসী বাউল সাথে মা,
ভাটিয়ালি গাও মাঝিদের সাথে, কীর্তন শোনো রাতে মা,
ফাল্গুনে রাঙা ফুলের আবিরে রাঙাও নিখিল ধরণী\

এ গানটি নজরুলের এমন একটি গান যে গানের আদলে সমগ্র বাংলাদেশ জেগে উঠে, তা এখন চন্দ্ররেণুর কবলে।

শনিবার, ১৯ মে, ২০১২

আরেক ফাল্গুনের কথা


কাছাড়ে শহীদদের উদ্দেশ্যে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ
কাছাড়ে শহীদদের উদ্দেশ্যে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ
ছবি: ভাস্কর মুখার্জি
বাংলা ভাষার জন্য প্রথম জীবন দিয়েছিলেন বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনকারীরা, ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। দ্বিতীয়বার এই বাংলা ভাষার জন্যই প্রাণ দেয় আসামের বাঙালি অধ্যুষিত কাছাড় জেলার শিলচরের মানুষ, সেটা ১৯৬১ সালের ১৯ মে। গত শনিবার আসামের বরাক উপত্যকার বাঙালি অধ্যুষিত তিন জেলা কাছাড়, করিমগঞ্জ আর হাইলাকান্দিতে পালিত হলো ঐতিহাসিক ১৯ মের স্মরণে ভাষা দিবস। ষাটের দশকে বাংলা ভাষাকে আসামে স্বীকৃতি দেওয়ার দাবিতে গর্জে উঠেছিল গোটা বরাক উপত্যকা। সেই ভাষার আন্দোলন করতে গিয়ে সেদিন শিলচর রেল স্টেশনে প্রাণ বিসর্জন দিয়েছিলেন ১১ তরুণ-তরুণী। দিনটিকে স্মরণ করে এবারও গোটা ভারতে পালিত হয়েছে ‘জাতীয় মাতৃভাষা দিবস’। আর একুশকে বসানো হয়েছে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের আসনে।
১৯৬১ সালের ১৯ মে আসামের রাজ্যভাষা হিসেবে বাংলা ভাষাকে স্বীকৃতি দানের দাবিতে ঝরেছিল রক্ত। সেদিনের ভাষা আন্দোলনের ফসল তুলে নিয়েছে বরাক উপত্যকার বাঙালিরা। আসামের দ্বিতীয় রাজ্যভাষা হয়েছে বাংলা। আর বরাক উপত্যকার সরকারি ভাষা হয়েছে বাংলা। 
১৯৬০ সালের ২৮ অক্টোবর আসাম বিধানসভায় একটি আইন পাস হয়। তাতে বলা হয়, আসামের সরকারি ভাষা হবে অসমীয়া। বাঙালিসহ সবাইকে পড়তে হবে অসমীয়া ভাষায়। এই ঘোষণাকে সেদিন মেনে নিতে পারেনি বরাকের বাঙালিরা। তারা গর্জে ওঠে এর প্রতিবাদে। ১৯৬১ সালের ৫ ফেব্রুয়ারি বাংলা ভাষা আন্দোলনের জন্য গঠিত হয় সংগ্রাম পরিষদ। সভাপতি হন আবদুর রহমান চৌধুরী। বাংলাদেশের ভাষা আন্দোলনের পথ ধরে শুরু হয় বরাকজুড়ে বাংলা ভাষার আন্দোলন। তখন আসামের মুখ্যমন্ত্রী ছিলেন কংগ্রেসের বিমলা প্রসাদ চালিহা। তিনিই আবার নির্বাচনে নিজের কেন্দ্রে পরাজিত হয়ে শিলচরে এসে সেই বাঙালিদের আশার বাণী শুনিয়ে তাদের ভোটে জয়ী হয়ে মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সৌভাগ্য অর্জন করেছিলেন। অথচ, এই মুখ্যমন্ত্রী চালিহাই ঘোষণা দেন, স্কুল-কলেজে শিক্ষার মাধ্যম হবে অসমীয়া। এই ঘোষণার প্রতিবাদে শুরু হয় বরাক উপত্যকাজুড়ে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ, আন্দোলন। এই আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে করিমগঞ্জ, হাইলাকান্দি ও কাছাড়ে।
১৯৬১ সালের ১৯ মে। সব বাধা ভেঙে আসামে শুরু হলো বাংলা ভাষার দাবিতে সত্যাগ্রহ আন্দোলন। সেদিন এই আন্দোলনে শরিক হতে শিলচর স্টেশনে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হয়েছিল। চলছে অবস্থান ধর্মঘট। বিকেল চারটার মধ্যে এই সত্যাগ্রহ আন্দোলন শেষ হওয়ার কথা। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে বেলা দুইটা ৩৫ মিনিটে বিনা মেঘে বজ্রপাত হলো শিলচর স্টেশনে। ভারতের আধাসামরিক বাহিনী অতর্কিত গুলি চালাল নিরীহ আন্দোলনকারীদের ওপর। শহীদ হলেন আন্দোলনে যোগ দেওয়া ১১ তরুণ-তরুণী। 
সে বছর ছিল কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের জন্ম শতবর্ষ। কবিগুরুর এই জন্ম শতবর্ষে বলিদান হলো তাজা ১১টি প্রাণের। শহীদ হলেন কমলা ভট্টাচার্য, কুমুদ দাস, শচীন পাল, সুনীল সরকার, কানাইলাল নিয়োগী, সুকমল পুরকায়স্থ, চণ্ডীচরণ সূত্রধর, তরুণী দেবনাথ, বীরেন্দ্র সূত্রধর, হীতেশ বিশ্বাস ও সত্যেন্দ্র দেব। সবারই বয়স ছিল ২৫ বছরে মধ্যে। এ ঘটনার দেশজুড়ে ওঠে প্রতিবাদের ঝড়। শিলচরে বিশাল শোকমিছিল হয়। তার পরই ১১ শহীদের শেষকৃত্য হয় শিলচর শ্মশানে। আজও সেই শ্মশানে এই ১১ শহীদের ১১টি স্মৃতিস্তম্ভ দাঁড়িয়ে আছে। শুধু তা-ই নয়, শিলচর স্টেশনের সামনে যেখানে হত্যা করা হয়েছিল এই ১১ তরুণ-তরুণীকে—সেখানেও তৈরি করা হয়েছে স্মৃতিস্তম্ভ। ১১ শহীদের নামে ১১টি স্তম্ভ। আর শিলচর শহরের গান্ধিবাগে এই ১১ শহীদের স্মরণে গড়া হয় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার। এবার আসামের মুখ্যমন্ত্রী তুণ গগৈর তরফে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানান গগৈর পুত্র গৌরব গগৈ। শিলচরের মানবতাবাদী কর্মী পীযূষ কান্তি দাস শিলচর থেকে প্রথম আলোকে জানান, আসামের ভাষা আন্দোলনের ৫০ বছর পূর্তি থেকে তাঁরা এই দিনটিকে জাতীয় ভাষা দিবস হিসেবে পালন করে আসছেন। এবারও এর ব্যতিক্রম হয়নি। গতকাল সকালে রেল স্টেশনে নতুন করে তৈরি হওয়া শহীদস্তম্ভে শহীদদের স্মরণে দেওয়া হয় পুষ্পমাল্য। এই শহীদবেদির পাদদেশে শুক্রবার থেকে শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠান। অন্তত শিলচরের ৫০টি সামাজিক ও রাজনৈতিক সংগঠন শহীদ স্তম্ভে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে। এর পরে শিলচরের শ্মশানের শহীদ স্তম্ভেও পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হয়। বেলা দুইটা ৩৫ মিনিটে গান্ধিবাগের শহীদস্তম্ভে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করে শিলচরবাসী। এদিন বরাক উপত্যকাজুড়ে দিনভর চলে নানা অনুষ্ঠান। এবারই প্রথম শহীদ দিবস উপলক্ষে শিলচরের বিভিন্ন সড়কে আলপনা আঁকে ৫০০ শিল্পী।
দিনটি পালন হয়েছে কলকাতাসহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যেও। কলকাতায় এ উপলক্ষে আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ভাষাশহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানায় নবজাগরণ, ভাষা চেতনা সমিতি এবং ভাষা স্মারক সমিতি।
অমর সাহা 
কলকাতা থেকে

২৫০০ সাল সোস্যাল ফকিশন




ড. আবুল আজাদ
ইংরজেী খ্রস্টিাব্দরে সহস্রতম সলিভার জুবলিী উৎসব আজ ১ জানুয়ারি ২৫০০ সাল। আড়াই সহস্রাব্দ এবং বছররে প্রথম দনিরে এই সোনালি সকালে অর্পূব দখোচ্ছে ঢাকা শহরক।ে র্দীঘদনি পর ইউরোপরে ফ্রাঙ্কর্ফুট থকেে আবুধাবী, বোম্ব,ে কলকাতা হয়ে ঢাকায় এসছে।ি কলকাতার যাদবপুর বশ্বিবদ্যিালয়রে সাড়ে চার শ’ বছর র্পূতি উপলক্ষে আয়োজতি অনুষ্ঠানরে আমন্ত্রণ পয়েইে ওখানে যাওয়া। আমার এক র্পূবপুরুষ ঐ বশ্বিবদ্যিালয়রে এলামনাই ছলিনে। তাই ওরা আমাকে আমন্ত্রণ জানায়। ঐ অনুষ্ঠান সরেে সড়কপথে ট্রনেে ঢাকা। সময় লগেছেে মাত্র ৩০ মনিটি। চার-পাঁচ শ’ বছর আগে নাকি আট থকেে বারো ঘণ্টা সময় লাগত। এখন অবশ্য সময় কম লাগার কারণে ঢাকা-কলকাতা কউে আর আকাশ পথে যাতায়াত করে না। 
খ্রস্টিাব্দরে সহস্রতম সলিভার জুবলিী উৎসব উপলক্ষে সারা পৃথবিীতইে নানা র্কমসূচী উদ্যাপতি হচ্ছ।ে এশয়িাতওে এ উপলক্ষে নয়ো হয়ছেে নানা উদ্যোগ। যা ইতোমধ্যইে বশ্বিবাসীর নজর কড়েছে।ে এর অন্যতম কারণ, বশ্বি র্অথনীততিে এশয়িার অবস্থান। এশয়িা এখন তার সব দশেকে নয়িে এক সঙ্গে হাঁটছ।ে এক সময় নাকি এই মহাদশেরে দশেগুলোর মধ্যে সদ্ভাব ছলি না। ভারত ও পাকস্তিান নামক দশে দু’টি দাবংিশ শতকরে শুরুতে পারমাণবকি যুদ্ধে লপ্তি হয়ে ধ্বংস হয়ে গয়িছেলি। তাদরে ঘুরে দাঁড়াতে সময় লগেছেে দুই শ’ বছর।
ঢাকা এখন চার স্তরবশিষ্টি শহর। প্রথম স্তর মাটরি নচি।ে দ্বতিীয় থকেে চর্তুথ স্তর মাটরি উপর।ে ফ্লাইওভাররে লভেলেরে ওপর এই স্তরগুলো নর্ভির কর।ে অবশ্য ১০০-১৫০ তলা ভবনরে সংখ্যা অগণতি। চলার পথে কোথাও ক্রসংি নইে। সব আন্ডার পাস অথবা ফ্লাইওভাররে নয়িন্ত্রণ।ে এই শহররে ব্যস্ততম মানুষরে জন্য যাতায়াত ব্যবস্থার সবচয়েে উপাদয়ে বাহন হচ্ছে হলেকিার। সারাদশেইে হলেকিাররে নটেওর্য়াক বস্তিৃত। যারা সম্পদশালী তারাও এখন আর প্লনে বা হলেকিপ্টার ব্যবহার করনে না। হলেকিারে চলাচল করনে। এই বাহনটি বাংলাদশেরে দাবংিশ শতকরে বজ্ঞিানীদরে আবষ্কিার। মূলত এটা হচ্ছে ডানাওয়ালা প্রাইভটেকার ধরনরে বাহন। পৃথবিীর বভিন্নি দশেে বদ্যিুত ব্যবস্থা এখনও মাটরি উপরে থাকলওে তনি শ’ বছর আগইে ঢাকার বদ্যিুত ব্যবস্থা আন্ডার গ্রাউন্ড সস্টিমেে উন্নীত হয়। সজেন্য ফ্লাইওভাররে টপফ্লোর থকেে হলেকিার অনায়াসে চলাচল করতে পার।ে
ঢাকায় উঠছেি হোটলে সোনার বাংলায়। সকালে ঘুম ভঙ্গেছেে রুমরে লাউড স্পীকারে হালকা সুরে রাগধ্বনি শুন।ে তারপরই বজিয়রে গান-জয় বাংলা, বাংলার জয়.......। আমার ঢাকায় বশে কছিু আত্মীয়স্বজন আছ।ে আথত্যি-সংস্কৃতি বাঙালী এখনও আন্তরকিভাবে ধরে রাখলওে আমি এবার এসছেি টানা ২৫ দনিরে ছুটি নয়ি।ে তাই এত র্দীঘ সময় আত্মীয়স্বজনকে বরিক্ত না করার সদ্ধিান্ত থকেইে হোটলেে ওঠা।
রুম র্সাভসি ব্রকের্ফাস্ট দয়িে গলে একটা ময়ে।ে খােঁপায় কনকচাপা গােঁজা আটপৌরে ধরনরে লাল পাড় হলুদ শাড়ি পরা ময়েটেরি নাম যমুনা। বলেরে শরবত, দই, চড়িা, খই, আখরে গুড়, নারকলে, কলা, ডমি পোচ আর বাখরখান।ি এই বাখরখানরি কথা বশি শতকরে ইতহিাসবদি মুনতাসীর মামুনরে লখোয় পড়ছেলিাম। পরর্বতী ইতহিাস থকেে মুঘলদরে এই সুখাদ্যটি হারয়িে গলেওে এখন অবশ্য আবার ঢাকায় পাওয়া যাচ্ছ।ে
যুমনা এসে জানাল হোটলেরে ৭ নম্বর লবতিে আমার জন্য হলেকিার অপক্ষো করছ।ে সোনার বাংলা হোটলেটা ১০০ তলা। প্রতি দশ তলা অন্তর একটি লবি আছ।ে আমার রুমটি পড়ছেে ৭১ তলায়। ৭ নম্বর লবি কাছইে, হঁেটে যাওয়া যাব।ে যমুনা আমাকে হলেকিাররে দরজা র্পযন্ত এগয়িে দয়িে চলে গলে। কছিুটা পথ গাড়রি মতো চলার পর ফ্লাইওভাররে টপ ফ্লোর থকেে আমাদরে বাহন উড়তে লাগল। যে দকিে চোখ যায়, সব ঝকঝকে দৃশ্য। নগর নদী আর প্রকৃত।ি ঢাকায় এখন লোকসংখ্যা পাঁচ কোটি আর বাংলাদশেরে লোকসংখ্যা ৭০ কোট।ি তারমধ্যে অবশ্য ১০ কোটি বাঙালী এখন বশ্বিরে বভিন্নি দশেে বসবাস কর।ে ঢাকা শহররে নগরায়ণটাও হয়ছেে অত্যন্ত পরকিল্পতিভাব।ে বশ্বিরে যে কোন শহর এমনকি ভয়িনো, অটোয়া, মলের্বোন, প্যারসি আর লন্ডন কলকাতার চয়েওে কোন অংশে কম নয়। দশেরে ১৫০ জলোর মধ্যে ২৫টি জলো নয়িে ঢাকা মউিনসিপ্যিাল অথরটি।ি গোপালগঞ্জ, মানকিগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, টাঙ্গাইল, কুমল্লিা এই র্কপােরশেনরে অর্ন্তভুক্ত। বৃহৎ এই র্কপােরশেনটি ৫টি জোনে ভাগ করা আছ।ে 
ঢাকার জীবনরে উপরি কাঠামো যান্ত্রকি হলওে বাঙালী এখনও তার আদি ঐতহ্যির্পূণ সামাজকিতাকে ভোলনে।ি খ্রস্টিাব্দরে সহস্রতম সলিভার জুবলিী বাঙালীর নজিস্ব উৎসব না হলওে এই আর্ন্তজাতকি উৎসবকে র্মযাদার্পূণভাবে উদ্যাপন করতে কোনভাবইে র্কাপণ্য করনে।ি ফ্লাইওভার, টানলে, আন্ডারপাস, মট্রেোট্রনে, নদীবন্দর, এয়ারর্পোট সব জায়গাতইে এ উপলক্ষে ব্যাপক সাজসজ্জার আয়োজন করা হয়ছে।ে কলজে বশ্বিবদ্যিালয়রে ছলেমেয়েরো রাস্তার পাশে নানা র্বণরে ব্যানার ফস্টেুন আর বলেুন নয়িে ঠায় দাঁড়য়িে আছ।ে কারণ এই শহরে এখন বাড়ি ঘররে দয়োল-েরাস্তাঘাটে পোস্টার ব্যানার লাগানো নষিদ্ধি। ছলে-েময়েরো এই কাজটা র্পাটটাইম জব হসিবেে কর।ে 
বাংলাদশেরে মানুষ সইে আদকিাল থকেইে র্ধমপ্রাণ। একবংিশ শতাব্দী র্পযন্ত এ ধারা অব্যাহত থাকলওে এই শতকরেই শষে দকিে এসে মানুষ র্ধমর্চচার পাশাপাশি অধকি হারে বজ্ঞিানমনস্ক হয়ে পড়।ে তার র্অথ এই নয় যে ঢাকার মসজদি, মন্দরি ও গর্জিাগুলো অপসারণ করা হয়ছে।ে আছে সবই। তবে এখন এগুলো র্ধমীয় কালচারাল সন্টোর হসিবেে কাজ কর।ে আগ্রহীরা এসব সন্টোরে গয়িে র্ধমীয় আনুষ্ঠানকিতা পালন এবং র্ধম সর্ম্পকে জ্ঞান লাভ কর।ে
মূলত ঊনবংিশ থকেে একবংিশ শতকরে মধ্যে মানুষ বজ্ঞিানরে উৎর্কষ সাধনে সক্ষম হয়। মহাকাশ বজ্ঞিানরে ধারণার ক্ষত্রেওে এ সময় যুগান্তররে সূচনা ঘট।ে বজ্ঞিানী এরস্টিোকাস প্রচলতি র্ধমমতকে অস্বীকার করে র্সূয ও চন্দ্র গ্রহণরে ধারণা উপস্থাপন করনে। আধুনকি বজ্ঞিানরে প্রবক্তা গ্যাললিওি বলনে র্সূয নয়, পৃথবিী র্সূযরে চারদকিে ঘোর।ে এজন্য র্ধমর্কতারা গ্যাললিওিকে মৃত্যুদ-ে দ-তি করনে। গ্যাললিওি তখন তার কথা ফরিয়িে নয়িে মৃত্যুদ-রে হাত থকেে রক্ষা পান। বংিশ শতাব্দীর মাঝামাঝি এলর্বাট আইনস্টাইন পর্দাথবজ্ঞিানরে ধারণায় সূচক নর্মিাণ করে বশ্বিকে এক নতুন বজ্ঞিান ও আবষ্কিাররে দ্বারপ্রান্তে উপনীত করনে। একবংিশ শতকরে সূচনাকালে বজ্ঞিানী স্টফিনে হকন্সি বশ্বিবাসীকে এক নতুন বজ্ঞিানরে কথা বলনে। আর সইে বজ্ঞিানটি হচ্ছে ‘বগিব্যাং তত্ত্ব’। এই তত্ত্ব অনুসারে বগিব্যাং হচ্ছে একটি মহাকৃষ্ণ গহবর। এই কৃষ্ণগহ্বর থকেইে সৌরজগতরে সৃষ্ট।ি আর সইে সৌরজগতরেই এক বস্মিয়কর পরণিতি হচ্ছে পৃথবিী।
হকন্সিরে বশ্বিসমত,ে এই পৃথবিী-সৌর জগত ও মহাবশ্বি নজিইে সৃষ্টি হয়ছে।ে এখানে ভাগ্য বলে কছিু নইে। আর যে বগিব্যাং থকেে সব কছিুর শুরু সইে বগিব্যাং এ কোন সময় ছলি না। অতীতে ফরো এবং ভবষ্যিতে যাওয়ারও কোন ধারণা ছলি না। তাই কোন সৃষ্টর্কিতারও তখন আবর্ভিাব ঘটনে।ি সৃষ্টর্কিতার ধারণাটি গ্রহণ করছেে পৃথবিীর মানুষ বড়জোর ৭ হাজার বছর। অথচ ঐতহিাসকিভাবে স্বীকৃত য,ে পৃথবিীর বয়স প্রায় ৬৫০০ কোটি বছর। ৫০ লাখ বছর আগে মানুষ প্রথম দু’পায়রে ওপর ভর করে হাঁটতে শখে।ে আর আধুনকি মানবসভ্যতার বয়স ১৫ লাখ বছর। কনেনা, আদমি মানবজাতি সভ্যতার ঊষালগ্নে প্রথম রান্না করে খতেে শখেে ১৫ লাখ বছর আগ।ে এই র্দীঘ সময়রে কাছে ৭ হাজার বছর কছিুই না। আর এই ৭ হাজার বছর বাদ দলিে ১৫ লাখ বছররে বাকি সময়টা কন্তিু মানুষ ‘মহান সৃষ্টর্কিতা’ ও ‘ঈশ্বর’ তত্ত্বরে বাইরইে কাটয়িে দয়িছে।ে তাই বলে বজ্ঞিানী হকন্সি কন্তিু মানুষরে র্ধমবশ্বিাসকে অস্বীকার করনেন।ি তনিি বলনে, মানবদহেরে পরকিাঠামোতে বশ্বিাস নামক শক্তটিরি একটি অবস্থান আছ।ে যে যাতে বশ্বিাস করে তাতইে পরতিৃপ্ত হওয়ার একটি মানসকি অবস্থা তরৈরি অপরমিয়ে উৎস ভা-ার হচ্ছে মানবদহে। তাই মানুষ র্ধম বশ্বিাসে আস্থাবান হতইে পার।ে তাছাড়া বজ্ঞিান তো র্ধমকে অস্বীকার করে না। শুধুমাত্র নতুন বকিল্পরে সন্ধান দয়ে। বাস্তবতা হচ্ছ,ে আজকরে পৃথবিীর মানুষ বশ্বিাস করে য,ে সৃষ্টি চক্ররে নয়িম বলে যদি কছিু থাকে তাহলো প্রকৃতরি নয়িম। তাই খ্রস্টিাব্দরে এই সহস্রতম সলিভার জুবলিী লগ্নে লক্ষ্য করছ,ি শুধু বাংলাদশে নয়, সারা পৃথবিীতইে মানুষ বজ্ঞিানর্চচায় অধকিমনস্ক হয়ে পড়ছ।ে র্ধম ধারণা সূচনার পর থকেে মানুষরে মধ্যে র্দীঘ সময়ব্যাপী পর র্ধম বদ্বিষে কাজ করলওে এখনকার বশ্বিরে মানুষরে বদ্বিষে ও র্ঈষার পছেনে সময় ব্যয় করার মতো সময় নইে। কারণ র্বতমানে বাংলাদশেরে মানুষরে গড় আয়ু একশত বছর। এজন্য প্রতি ৫ বছর অন্তর অন্তর তাকে এক বছররে জন্য ল্যাবরটেরতিে থাকতে হয়। এটাকে মানবদহেরে মনেটনেন্সে র্সাভসিংি পরিয়িড বল।ে সজেন্য শক্ষিা, কাজ, উর্পাজন, অন্বষো, উপভোগ এগুলোই র্বতমান বশ্বিরে মানুষরে জীবন যাপন পদ্ধতরি ৫টি মৌলকি স্তম্ভ হসিবেে স্বীকৃতি লাভ করছে।ে বশ্বি সভ্যতার ইতহিাসে লক্ষ্য করা যায় প্রতটিি সভ্যতাই র্সবােচ্চ ১ লাখ বছররে মধ্যে বলিুপ্ত হয়ে গছেে এবং পরর্বতী ১ লাখ বছররে মধ্যে আবার আরকেটি সভ্যতার উদ্ভব বকিাশ ও পরসিমাপ্তি ঘটছে।ে আমাদরে র্বতমান সভ্যতার বয়স র্অধলক্ষরে কাছাকাছ।ি সমগ্র বশ্বিরে বজ্ঞিানীরা আজ এই সভ্যতা প্রাকৃতকি র্দুযােগ অথবা মহাজাগতকি কোন র্দুঘটনায় বলিুপ্তরি সময় অত্যাসন্ন বলে মনে করছনে। তাই রাতদনি কাজ করছনে তারা এই অশনি র্দুযােগ মোকাবলিার লক্ষ্য।ে
মহাবশ্বি অবরিাম সম্প্রসারণরে ফলে অনন্ত মহাকাশরে নক্ষত্রপুঞ্জ আমাদরে সৌরজগত থকেে ক্রমশ দূরে সরে যাচ্ছ।ে ফলে বায়ুম-লরে অশুভ পুচ্ছ, ধ্বংসপ্রাপ্ত কৃষ্ণগহ্বররে জ্বলন্ত পাথর খ- আর সৌরম-লরে গ্রহসমূহ থকেে নক্ষিপ্তি লাভাস্রোতরে অবশষ্টিাংশ পৃথবিীতে এসে পড়ার ফলে মহার্দুযােগরে আশঙ্কটা দনি দনি বাড়ছ।ে এই অনশ্চিতি ভবষ্যিত যাত্রার হাত থকেে মানব সভ্যতাকে রক্ষার একমাত্র উপায় এখন অব্যাহত বজ্ঞিানর্চচা এবং বজ্ঞিানরে জ্ঞান ভা-ারকে সমৃদ্ধ করা। মানুষ এখন বশ্বিাস করে কোন তত্ত্ব দয়িে এই পৃথবিীকে রক্ষা করা যাবে না। প্রকৃতরি নয়িম এবং মহাকাশরে আপন সৃজন শক্ততিইে পৃথবিী বদলায়।
এক সময় পাসর্পোট নামক একটা অদ্ভুদ বস্তু ছলি। ছোট্ট একটি বই আকৃতরি এই বস্তুটি এক দশে থকেে আরকে দশেে যাওয়ার সময় সীমান্ত প্রহরীদরে কাছে প্রর্দশন করতে হতো। সীমান্তরে উভয় দশেরে প্রহরীরা ঐ পাসর্পোট নামক বস্তুটতিে দু’চারটে সলি-ছাপ্পর মারার পর মানুষ অনায়াসে এক দশে থকেে আরকে দশেে যাতায়াত করতে পারত। এখন অবশ্য এধরনরে অসম্মান ও হয়রানমিূলক কোন প্রথাই চালু নইে। মানুষ এখন এক বশ্বিরে নাগরকি। এ সব কাজে সময় নষ্ট করাকে মানুষ খুব ক্ষতকির কাজ এবং সময়রে অপচয় বলে মনে কর।ে
আমরা অনুষ্ঠানস্থলরে প্রায় কাছাকাছি চলে এসছে।ি বঙ্গবন্ধু সটিি স্টডেয়িামে অনুষ্ঠানরে আয়োজন করা হয়ছে।ে এই সটিরি আদনিাম টুঙ্গপিাড়া। বাঙালি জাতরি জনক বঙ্গবন্ধু শখে মুজবিুর রহমানরে জন্মস্থান এই টুঙ্গপিাড়া। তাঁর সমাধস্থিলও এই শহরইে। বংিশ শতকরে ৭১ সালে বাংলাদশেকে স্বাধীন করার মাত্র ৪ বছররে মাথায় কছিু পথভ্রষ্ট বদিশেী এজন্টে এই মহামানবকে সপরবিারে নর্মিমভাবে হত্যা করছেলি। এই কলঙ্ক মোচনরে জন্য অনকে স্মৃতচিহ্নি ও স্থাপনা নর্মিাণ করলওে তা যথষ্টে না ভবেে ২১১৭ সালে সরকার টুঙ্গপিাড়াকে বঙ্গবন্ধু সটিি ঘোষণা কর।ে পরর্বতী ১০০ বছররে মধ্যইে বঙ্গবন্ধু সটিি র্ফাস্ট ক্যাপটিালরে র্মযাদা পায় এবং রাজধানী ঢাকার অর্ন্তভুক্ত হয়।
এত বড় একটি অনুষ্ঠানে খুব বশেি লোক সমাগম হয়ন।ি সব মলিয়িে হাজারখানকে। এশয়িার প্রত্যকে দশে থকেে প্রতনিধিরিা এসছেনে। আর দশেরে ১৫০ জলোর প্রতনিধিরিাও আছনে। তনি-চার শ’ বছর আগওে বাংলাদশেরে ভূখ-রে পরমিাণ ছলি এক লাখ পঞ্চান্ন হাজার র্বগমাইল। এখন সাড়ে চার লাখ র্বগমাইল। সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম এবং মংলা এখন বাংলাদশেরে মধ্যর্বতী শহর। সমুদ্র এখন চট্টগ্রাম আর মংলা থকেে সরে গছেে দুই শ’ মাইল দূর।ে যা র্বতমান প্রজন্ম বশ্বিাস করতে চায় না। একইভাবে ৫০০ বছর আগওে মানুষ বশ্বিাস করত না যে রাজধানী ঢাকার অর্ন্তভুক্ত জলো শহর কুমল্লিাও এক সময় ছলি সমুদ্র বন্দর। কুমল্লিার ময়নামতি পাহাড়ে প্রতœতাত্ত্বকিরা নৌযান ও মাছরে ফসলি উদ্ধার করে এর সত্যতা নরিূপণ করছেনে।
রাত বারোটা এক মনিটিে শুরু হলো খ্রস্টিাব্দরে সহস্রতম সলিভার জুবলিী অনুষ্ঠান। প্রথমে বাংলাদশেরে জাতীয় সঙ্গীত গয়েে অনুষ্ঠানরে সূচনা হয়। তারপর খ্রস্টিাব্দ গণনার সূচক যশিুখ্রস্টিরে জন্মস্থান জরেুজালমেরে একজন বশিষ্টি নাগরকি যশিুর স্মরণে বন্দনাস্ত্রোত পাঠ করনে। এরপর শুরু হয় রাতরে আকাশে আলোকচ্ছটা আর আড়াই হাজার আতশবাজরি দৃষ্টনিন্দন খলো। এক ঘণ্টার অনুষ্ঠান শষেে আমাদরে আবার ফরোর পালা। হোটলেে পৗেঁছে একটু বশ্রিাম নতিে হব।ে সকালে অনুষ্ঠানরে দ্বতিীয় র্পব শুরু হবে বঙ্গোপসাগরে নৌ-বহিার দয়ি।ে 


লখেক : গবষেক ও সাংস্কৃতকি সংগঠক
ধনঁষধুধফ১৯৬১@মসধরষ.পড়স

আপন দর্পণ: যাবার সময় হলে


 মুস্তাফা জামান আব্বাসী  

নাতি-নাতনিরা চলে যাওয়া বরদাস্ত করতে পারে না। কোথাও যাব শুনলেই মুখ গম্ভীর করে। ব্যাঙ্ককে ও ইউনাইটেড মিলে শরীরের উপর যেরকম খোঁচাখুঁচি হচ্ছে তাতে কারও চলে যাওয়ার কথাই মনে হবে। আমার এক বন্ধু রাগ করে ইংল্যান্ডে চলে যায়, সেখানে খপ্পরে পড়ে এক মেম সাহেবের। কুড়ি বছর ধরে তার সঙ্গে অনুবাদ করে কথা বলার পর এবং দু’টি সন্তানের জন্ম দেয়ার পর আবার রাগ করে ঢাকায় চলে আসে। বলে, ওর সঙ্গে আর ঘর করব না। আরেকজন মহিলা খোঁজ করে তার সঙ্গে বিয়ে দিলাম। এরপর বহুদিন খবর নেই। শুনলাম কুষ্টিয়া থেকে তার বাবার কনস্টিটিউয়েন্সি থেকে ইলেকশনে দাঁড়াবে। পরশুদিন বনানী কবরস্থানে নেমপ্লেট পড়ছি। এটা আমার একটি অভ্যেস। হঠাত্ দেখি তার নাম। রেফাউল হক। সে সবার উপর রাগ করে পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছে। আমি রাগ করিনি, যাবার প্রস্তুতি নিচ্ছি।
প্রস্তুতির প্রথমপর্ব সবার কাছে ক্ষমা চাওয়া, বিশেষ করে আপনজনের কাছে, যাদের মনে না জেনে আঘাত দিয়েছি যখন-তখন। গান গেয়েছি ‘ও তুই যারে আঘাত হানলি রে মনে সেজন কি তোর পর’, অথচ আপনজনকেই আঘাত দিয়ে গেছি চিরদিন। ভেবেছি, সে তো আমার আপন, তাকে আঘাত দেয়াই চলে। আসলে তা নয়। তার মন যুগিয়ে চলাই ছিল আমার কাজ, তা আমি করিনি। তাই আজ সবচেয়ে মনে কষ্ট পাচ্ছি, আপনজনকে আঘাত দেয়ার কষ্ট। ঠিক করেছি আর কাউকে আঘাত দেব না। অথচ এ প্রতিজ্ঞা রাখতে পারছি না। একটু আগে চা দেরি করে দেয়ায় মেইডকে বকেছি, খবরের কাগজ দেরি করে দেয়ায় কাগজওয়ালাকে, সারাদিন কাউকে আঘাত না দেয়ার প্রতিজ্ঞা রাখতে পারিনি। এ যেন হয়ে পড়েছে মজ্জাগত অর্থাত্ চরিত্রের সঙ্গে আঘাত দেয়াটাও চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যে পরিণত হয়েছে। যখন যা খুশি করে চলেছি। প্রভুকে দেয়া কোন প্রতিশ্রুতি রক্ষা করিনি। সকালে ঘুম থেকে উঠে তার দাসত্বের অঙ্গীকার করেছি প্রায় এক ঘণ্টা, অথচ পরক্ষণেই অনায়াসেই নফেসর দাসত্ব করেছি। নফেসর দাস, প্রভুর নই। তাই যাওয়ার ক্ষণে হিসেব কষতে গিয়ে দেখি পুরোটাই নফেসর দখলে চলে গেছে। ঘরবাড়ি, সহায়- সম্পত্তি, পরিবার সব কিছুই টানে, প্রভু ছাড়া। মসিজদে যাই, সেখানেও নফ্স টানছে, তাহলে যাই কোথায়? কোনদিন কি প্রভুর দাসত্ব করতে পারব, যে ক’দিন আছি শুধু কি প্রভুর জন্যে কয়েক মিনিটের ওঠাবসা করে চলে যাব, তার সান্নিধ্য কি পাব না?
রাস্তায় বেরিয়ে দেখি কেউ কারও বন্ধু নই, সবাই সবার কাজ করে চলেছেন শুধু রোজগারের জন্যে। কারও দিকে ভালোবাসার দৃষ্টি মেলে ধরার অবকাশ নেই। রাজনীতিতে ঘোরতর সংঘাত, কেউ কাউকে সহ্য করতে পারছে না। গণতন্ত্র জায়গা করে দিয়েছে আপন খুশিতন্ত্রে। যারা ভাল লোক তারা কোথাও জায়গা পাচ্ছে না, ব্যবসা-বাণিজ্য, রুজি-রোজগার সবখান থেকে দেয়া হচ্ছে তাদেরকে হঠিয়ে। কোথাও গিয়ে দু’দণ্ড শান্তি পাওয়ার মত বন্ধু নেই। তাহলে এই বন্ধুগুলো গেল কোথায়? এই ভাবনায় দিন-রাত কষ্ট পাচ্ছি এবং একবার ভাবছি তাহলে এখান থেকে চলে যাওয়াই ভাল। যেখানে প্রেম নেই, ভালবাসা নেই, নেই সামান্যতম সহানুভূতি, সেখানে কেন কাল অতিবাহন।
কবরস্থানেও ব্যবসা, কবর বিক্রি হচ্ছে পাঁচ থেকে দশ লক্ষ টাকা। আজিমপুর কবরস্থানে যাদেরকে পাবেন তেলাওয়াতে মশগুল, তারাই ব্যবসায়ে নিযুক্ত। এখানে শায়িত অলি-আল্লাহ্, দু’ভাইয়ের ইচ্ছা সাধারণ কবরস্থানে যেন নির্বিঘ্নে ঘুমুতে পারি, থাকবে না কোন বেড়া, দেয়াল ও মনুমেন্ট। মক্কা-মদিনায় বড় বড় অলিদের কবরের পাশ দিয়ে হেঁটেছি। নির্দেশিকা নেই, পরিচয় আছে তাঁর কাছে, যার কাছ থেকে এসেছি।
১৭ মে, ২০১২
লেখক:অধ্যাপক-সংগীতজ্ঞ
mabbasi@dhaka.net

শুক্রবার, ১৮ মে, ২০১২

'ওস্তাদের কদর' মুখে নয় কাজেও দেখতে চাই

মোস্তফা হোসেইন


বছর কয়েক আগের কথা। একটি পত্রিকা অফিসে সম্পাদকের কক্ষের দরজায় অপেক্ষমাণ বাংলাদেশের বিখ্যাত এক লেখক। অনুমতি চাইলেন ভেতরে প্রবেশ করার। ধরন দেখে মনে হলো, কোনো শিক্ষার্থী যেন শিক্ষকের কক্ষে প্রবেশের অনুমতি চাইছেন। বাংলা একাডেমী পুরস্কারসহ বেশ কিছু পুরস্কার অর্জনকারী সেই লেখক কক্ষে ঢুকেই সম্পাদককে কদমবুছি করলেন। কাঁচুমাচু হয়ে দাঁড়ালেন সম্পাদকের সামনে। সম্পাদক লেখকের ব্যক্তিগত কিছু বিষয় জানতে চাইলেন। জিজ্ঞেস করলেন, তুমি কি সেই অভ্যাসটা এখনো ধরে রেখেছ? লেখক কাঁচুমাচু করতে থাকলেন। এত বড় লেখক তিনি, কেমন বাচ্চার মতো হয়ে গেছেন সম্পাদকের সামনে।
খুব জানার ইচ্ছা হলো লেখক আর সম্পাদকের সম্পর্কের বিষয়টি। লেখক জানালেন, 'সম্পাদক সাহেব সরাসরি আমার শিক্ষক। তিনি জগন্নাথ কলেজের শিক্ষক ছিলেন, আমি সেই কলেজে লেখাপড়া করেছি।'
অতি সাম্প্রতিক আরেকটি ঘটনা বর্ণনা করা যাক। এইচএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রের ঘটনা। পরীক্ষা শেষ হওয়ার আগে কেন্দ্রে গেছেন একটি কলেজের অধ্যক্ষ। পরীক্ষা শেষ হতেই দেখা গেল, কলেজের অফিসকক্ষের সামনে ওই কলেজের ছেলেমেয়েরা লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে। অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে শিক্ষার্থীরা কক্ষে ঢুকছে, আবার বেরিয়ে আসছে। ওরা ঢুকছে অধ্যক্ষকে কদমবুছি করে দোয়া নেওয়ার জন্য। প্রত্যেকেরই তৃপ্তিমাখা মুখ।
সামাজিক অবক্ষয়ের এই যুগে দুটি ঘটনা আপ্লুত আমাদের করতে পারে। শিক্ষকের প্রতি শিক্ষার্থীর শ্রদ্ধাবোধ দেখে মনে হতে পারে 'আবার তোরা মানুষ হ' চলচ্চিত্রের কথা। মনে হতে পারে, কাজী কাদের নেওয়াজের লেখা বাদশাহ আলমগীরের ছেলের ওস্তাদের প্রতি আচরণের দৃশ্য। আমরা অনেকেই পড়েছি সেই কবিতা। বাদশাহ আলমগীর দেখছিলেন, তাঁর ছেলে ওস্তাদকে পানির পাত্র থেকে পানি ঢেলে দিচ্ছে। বাদশাহ খুব রেগে গেলেন এতে। ওস্তাদ মৌলভি সাহেব মনে করলেন, বাদশাহজাদাকে দিয়ে পানি ঢালানোটা না জানি কত বড় অন্যায় হয়ে গেছে। কিন্তু আমরা কবিতায় বিবৃত হতে দেখলাম অন্যভাবে। বাদশাহ আলমগীর রেগে গেছেন নিজ ছেলের প্রতি। তাঁর কথা, ওস্তাদের পায়ে হাত লাগিয়ে ধুয়ে দিচ্ছে না কেন তাঁর সন্তান। রাজা-বাদশাহদের কাছেও শিক্ষক কতটা ওপরের আসনে আসীন, সেটাই প্রমাণিত হয় এই কবিতা থেকে। আর সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা সেই কবিতার কথাই মনে করিয়ে দেয়। আমরা আশান্বিত হই, আমরা দেখতে পাই, মানুষ এখনো শিক্ষার প্রতি, শিক্ষকের প্রতি সম্মান জানানোর রীতি ভোলেনি। এই রীতি আমাদের শিক্ষায়তনের তৃণমূল থেকে রাষ্ট্রনায়কদেরও অনেককে লালন করতে দেখা যায়। দার্শনিক সাইদুর রহমানকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বিশেষ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের কাহিনী, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক রাষ্ট্রপ্রধান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি সম্মান জানানোর ঘটনা আমাদের সামনে উদাহরণ হয়ে আছে। সর্বশেষ একটি ঘটনা শিক্ষককে সম্মান জানানোর আরেকটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে বলে গণ্য করা যায়। এটা রাষ্ট্রীয় সম্মান এবং সরকারপ্রধান মাধ্যমে প্রদত্ত। গত সপ্তাহে ঢাকার মোহাম্মদপুর রেসিডেনসিয়াল মডেল স্কুলে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকদের এক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঘোষণা দিয়েছেন, এখন থেকে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকরা তৃতীয় শ্রেণী থেকে দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদাপ্রাপ্ত হলেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ঘোষণার মাধ্যমে শিক্ষকদের অনেক দিনের দাবির প্রতি সম্মান জানানো হলো। সরকারি শিক্ষকদের পদমর্যাদা প্রদান করে তিনি বর্তমান প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করলেন শিক্ষকদের সম্মান জানানোর জন্য। হয়তো শিগগিরই টাইমস্কেল পাওয়া শিক্ষকদের সিনিয়র হিসেবে পদায়ন করার মাধ্যমে আরেক দফা মূল্যায়ন করে দেওয়া হবে- এটা শিক্ষকদের মতো আমরাও প্রত্যাশা করতে পারি।
এই সম্মান জানানোর সঙ্গে প্রথমোক্ত সম্মানের কিছুটা পার্থক্য হয়তো আছে, কিন্তু ব্যক্তির সম্মানবোধ না থাকলে এভাবে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে সম্মান জানানোর মানসিকতা তৈরি হয় না। তাই বলা যায়, এই সম্মান জানানোর মাধ্যমে তিনি গোটা জাতিকে সম্মান জানিয়েছেন। অন্তত আমাদের শিক্ষকদের মধ্যে নিশ্চয়ই প্রাপ্তির তৃপ্তি আসতে পারে। কিন্তু তার পরও প্রশ্ন থেকে যায়, বাংলাদেশে মাত্র ৩১৭টি সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় আছে। আর সহকারী শিক্ষকের সংখ্যা ৯ হাজার ৭৩২ জন। এর বাইরেও বেসরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষক আছেন। তাঁদের পদমর্যাদা ও প্রাপ্তিগুলো এ ক্ষেত্রে বিবেচনায় আনা হয়েছে কি না। বেসরকারি বিদ্যালয়গুলোর শিক্ষকরা প্রথম কিংবা দ্বিতীয় শ্রেণীর মর্যাদা পেতে পারেন না নীতিগত কারণেই। কিন্তু তাঁরাও সম্মানিত হতে পারেন। সে ক্ষেত্রে আমরা শিক্ষকদের আর্থিক সুবিধাদির কথা স্মরণ করতে পারি। দেশের শিক্ষার উন্নয়নে এসব শিক্ষকের অবদানের কথা স্বীকার করেই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত হওয়া সত্ত্বেও তাঁদের মূল বেতনের শতভাগই সরকার বহন করছে।
কিন্তু মুদ্রার অপর পিঠে অন্য চিত্রও দেখতে হচ্ছে আমাদের। কিছু ঘটনা শিক্ষকদের প্রতি সম্মানবোধকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। আমরা দেখেছি, যে মুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদপুরে সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষকদের দ্বিতীয় শ্রেণীর পদমর্যাদা প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন, ঠিক তখনই ঢাকার শাহবাগে বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের লাঠিপেটা করছে পুলিশ। কাঠফাটা রোদে শত শত শিক্ষক সেদিন অপেক্ষা করছিলেন প্রধানমন্ত্রীর কাছে তাঁদের স্মারকলিপি পেশ করার জন্য। তাঁরা স্মারকলিপি দিতে পারেননি, বরং পুলিশের বেধড়ক পিটুনি আর জলকামানের গরম পানি পেয়েছিলেন। যেসব পুলিশ সদস্য ওই সময় শিক্ষকদের পেটালেন, তাঁরাও এসব শিক্ষকের কাছ থেকেই দুই কলম শিক্ষা নিয়ে এসেছেন। দুর্ভাগ্য, সেসব শিক্ষককেই তাঁরা নাজেহাল করলেন। শিক্ষককে সম্মান জানানোর ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রীর মানসিকতার সঙ্গে এই নির্যাতনকে মিলিয়ে নেওয়া যায় না। দেশের ২৪ হাজার বেসরকারি রেজিস্টার্ড প্রাথমিক বিদ্যালয় সম্পর্কে আলোচনা-সমালোচনা হতে পারে। তার পরও ২৪ হাজার শিক্ষায়তনের ৯৬ হাজার শিক্ষার্থীও এই আচরণকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নেবে- এমনটা ভাবা যায় না। পুলিশের পক্ষ থেকে হয়তো বলা হবে, শিক্ষকরা সেদিন স্বাভাবিক নিয়ম-রীতি মানছিলেন না। স্মারকলিপি প্রদানের জন্য প্রতিনিধি পাঠানোর সুযোগ তাঁরা গ্রহণ করেননি। শত শত মানুষকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া যায় না বিধায় তারা প্রতিরোধ করেছিল।
পুলিশের এই আচরণের পর শিক্ষকদের ভুল সিদ্ধান্তটি আর আমলে আসছে না। স্মারকলিপি প্রদানের জন্য তাঁদের প্রতিনিধি পাঠানোর প্রস্তাবটি ছিল যৌক্তিক। তাঁরা কোন কারণে সেই প্রস্তাব না মেনে কর্তৃপক্ষকে বললেন, তাঁরা সবাই স্মারকলিপি নিয়ে যেতে চান, তা বোঝা যাচ্ছে না।
বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সেসব শিক্ষকের মর্যাদার প্রতি আমরা কি নজর দিয়েছি? আমাদের দেশের সুশীল সমাজ রাজনৈতিক কারণে যতটা উত্তেজিত হয়ে পড়েন, ক্ষমতার রদবদল নিয়ে তাঁরা যেমন অন্যদেরও উসকানি দিতে কসুর করেন না, সেই সুশীল সমাজের মানুষজন কি এগিয়ে এসেছেন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এসব শিক্ষকের দুঃখের কথা শোনার জন্য? এসব শিক্ষক শহীদ মিনারে অবস্থান করে দিনের পর দিন অপেক্ষা করছিলেন, কেউ হয়তো তাঁদের দাবির প্রতি একাত্মতা ঘোষণা করতে যাবে। সরকারের পক্ষ থেকেও হয়তো কেউ তাঁদের সঙ্গে আলোচনা করবে। কিন্তু কোনো সহানুভূতি তাঁরা পাননি। বাধ্য হয়ে তাঁরা আবারও ঘোষণা দিয়েছেন, আগামী মাসে একযোগে ২৪ হাজার বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তাঁরা তালা ঝুলিয়ে দেবেন।
আগে আরেকবার তাঁরা শিক্ষায়তনগুলো বন্ধ করে দিয়েছিলেন। সামনে যদি স্কুলগুলো আবারও বন্ধ হয়, তাহলে প্রায় এক লাখ শিক্ষার্থীর অবস্থা কী হবে? এই এক লাখ শিক্ষার্থীর শিক্ষার সুযোগ বন্ধ করে দিয়ে কিংবা সুযোগ হ্রাস করে দিয়ে কি ২০১৪ সালের মধ্যে নিরক্ষরমুক্ত বাংলাদেশ বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে? সুতরাং শুধু শিক্ষকের মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্যই নয়, বরং শিক্ষা সম্প্রসারণের জন্যও বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি সুদৃষ্টি দেওয়া উচিত। একই সঙ্গে শিক্ষকদের এভাবে নাজেহাল করার বিষয়টিও তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে হবে। মুখে নয়, কাজেও মর্যাদা দিতে হবে শিক্ষকদের।
mhussain_71@yahoo.com

আমাদের ক্ষমা করবেন না, স্যার


মাহফুজুর রহমান মানিক


স্যার, আমাদের ক্ষমা করবেন না। জাতির সন্তানদের শিশুকালে পড়িয়ে খেদমত করে গেছেন স্যার। চাহিদামাফিক খাদ্য, পোশাক কিংবা বাসস্থানের অভাব হলেও আপনার দায়িত্বে এতটুকু কার্পণ্য করেননি। কিন্তু যখন আপনাদের দিন চলছে না; যখন আপনাদের পেটের সঙ্গে পিঠ লেগে গেছে; যখন আপনাদের অবস্থা, আপনাদের নূ্যনতম চাহিদা সমাজ বুঝতে চেষ্টা করেনি; যখন আপনারা রাজপথে নামতে বাধ্য হলেন; যখন আপনারা প্রয়োজন বোঝাতে চেষ্টা করলেন; যখন আপনারা সরকারকে জীবন বাঁচানোর প্রয়োজনীয় দাবি জানানোর চেষ্টা করলেন_ আপনাদের আমরা তো সহযোগিতা করিইনি, উল্টো লাঠিপেটা করেছি, জলকামান দাগিয়েছি এবং অবশেষে আপনাকে লাশ পর্যন্ত করেছি। স্যার, এ যে ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ।
আমাদের ক্ষমা করবেন না, স্যার।
কেন ক্ষমা করবেন স্যার, আপনারা তো কোনো অযৌক্তিক আন্দোলন করেননি। আপনাদের কেবল এক দফা আন্দোলন : চাকরি জাতীয়করণ। বেসরকারি শিক্ষক হিসেবে মাসে চার হাজার নয়শ' টাকা দিয়ে তো আপনাদের চলার কথা নয়। সরকারি বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ৯ হাজার টাকা পেলে আপনারা পাবেন না কেন; যেখানে উভয়ের মান সমান, শিক্ষকদের যোগ্যতা সমান, বিদ্যালয়গুলোর ফলাফলও সমান_ সেখানে এই বৈষম্য তো মেনে নেওয়ার নয়। সবচেয়ে বড় কথা হলো স্যার, আপনারা এতদিন ধরে আন্দোলন করছেন, নানাভাবে সরকার আপনাদের আশ্বস্তও করেছে কিন্তু বাস্তবে কিছুই হয়নি। ২০১০-এ আন্দোলন করেছেন; শিক্ষামন্ত্রী দাবি বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ২০১২-এর প্রথমদিকে বিদ্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে ধর্মঘট করেছেন; তাতে প্রতিশ্রুতির পরও তা হয়নি।
কীভাবে ক্ষমা করবেন স্যার? ১৫ এপ্রিল আপনারা কোনো বিশৃঙ্খলা করতে চাননি। আপনারা কেবল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন; কেবল তার কাছে স্মারকলিপি পেশ করতে চেয়েছিলেন; এটা তো আপনাদের গণতান্ত্রিক অধিকার। জবাবে পুলিশের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন আপনারা। যে পুলিশের লাঠিপেটায় আপনারা আহত হয়েছেন, সে পুলিশ একদিন আপনাদের ছাত্র ছিল। অথচ এরা আপনাকে সম্মান দিতে জানেনি।
ক্ষমা তো এত সহজ নয়, স্যার। আপনারা এতদিন ধরে আন্দোলন করছেন অথচ আশ্বাস ছাড়া কোনো ফল পাচ্ছেন না, এটা কীভাবে সম্ভব। আপনার লাশ হওয়ার মধ্য দিয়ে আরেকটা আশ্বাস পাওয়া গেল, যার মাধ্যমে এই দফায়ও প্রাথমিক শিক্ষকরা অবস্থান ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছেন। এখন আসলে এই আশ্বাসের বাস্তবতা দেখার জন্য অপেক্ষা করা ছাড়া কোনো পথ নেই। তবে সরকার ২০১৪ সালের মধ্যে নিরক্ষরতামুক্ত বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখছে, ২০১৫ সালের মধ্যে সবার জন্য শিক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলছে আর প্রাথমিক শিক্ষার ঝরে পড়ার হারও কমানোর কথা বলছে। সবচেয়ে বড় কথা হলো, প্রাথমিক শিক্ষার সর্বকালের রেকর্ড বাজেট নিয়ে পিইডিপি-৩ বাস্তবায়নের পথে। এতসব স্বপ্ন আর পরিকল্পনার গোড়ায় রয়েছেন আপনারা শিক্ষকরা। অথচ আপনাদের বিষয়ে সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই।
স্যার, আপনি চলে গেছেন। আপনার চলে যাওয়া নিশ্চয়ই প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলনের একটা রসদ হবে এবং হয়তো আপনাদের চাকরিটা জাতীয়করণও হবে কিন্তু কিছুই আপনি দেখে যেতে পারেননি। আপনি মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, আপনাকে জাতি সম্মান দিতে পারেনি। আপনার মৃত্যুর জন্য আমরাই দায়ী। আপনি আমাদের ক্ষমা করবেন না। কারণ আমাদের লজ্জা নেই, আমাদের বিবেক ভোঁতা হয়ে গেছে। আপনার মৃত্যুর মতো এ রকম অস্বাভাবিক বিষয় আমাদের কাছে এতটা সহজ হয়ে গেছে যে আমাদের হৃদয় বলতে কিছু নেই। আমাদের ক্ষমা করবেন না স্যার।
mahfuz.manik@gmail.com